আমতলী(বরগুনা)প্রতিনিধি:প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে বরগুনার আমতলীতে মহাসড়কও পৌরশহর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে যন্ত্রচালিত অটো ও মিশুক গাড়ী। অটো ও মিশুক গাড়ী চলাচল নিয়ন্ত্রনে উপজেলা প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রনে দ্রæত অটো ও মিশুক গাড়ী চলাচল বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবী সচেতন নাগরিকদের।
জানাগেছে, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাব থেকে মানুষকে রক্ষায় ১ জুলাই থেকে লকডাউন ঘোষনা করেছেন সরকার।এ লকডাউন চলাকালিন সময়ে সকল ধরনের গণপরিবহন চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। কিন্তু সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে আমতলী-কলাপাড়া, আমতলী-শাখারিয়া মহাসড়কসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে ও আমতলী পৌর শহরে যাত্রী বোঝাই করে অটো ও মিশুক চালাচ্ছেন মালিকরা। এতে বিঘিœত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। গণ পরিবহন বন্ধ থাকায় অটো ও মিশুক মালিকরা এ সুযোগটা কাজে লাগিয়েছেন।
আমতলী উপজেলার বিভিন্ন সড়কে শতাধিক অটো ও মিশুক গাড়ী চলাচল করছে। এতে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস শহরাঞ্চল থেকে গ্রামাঞ্চলে ছড়ানোর আশংঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের সামনেই আমতলী বাঁধঘাট চৌরাস্তা, হাসপাতাল সড়ক, বটতলা ও একে স্কুল চৌরাস্তা থেকে অহরহ অটো ও মিশুক গাড়ী যাত্রী বোঝাই করে বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে। দ্রæত প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস থেকে গ্রামাঞ্চলকে রক্ষায় অটো ও মিশুক গাড়ী চলাচল বন্ধের দাবী জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
আমতলী পৌর নাগরিক ফোরামের সভাপতি( অবসরপ্রাপ্ত )সহকারী অধ্যাপক মোঃ আবুল হোসেন বিশ^াস বলেন, সরকার লকডাউনে গণ পরিবহন চলাচল বন্ধ ঘোষনা করেছে কিন্তু আমতলীতে অটো ও মিশুক অবাধে চলাচল করছে। প্রশাসনের সামনে অটো ও মিশুক চললেও তারা নিরব ভুমিকা পালন করছে। দ্রæত অটো ও মিশুক গাড়ী চলাচল বন্ধ করা প্রয়োজন। নইলে করোনা প্রত্যান্ত গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে যাবে।
আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ আলম হাওলাদার বলেন, মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে বিধি নিষেধ অমান্য করে কেহ গাড়ী বের করলে তা আটক করা হচ্ছে এবং ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে গণ পরিবহন চালালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মুজিব শতবর্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া গৃহ বরাদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে
আমতলীর ইউএনওকে শাস্তিমূলক বদলী ও বিভাগীয় মামলা রুজু!
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলীতে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে হতদরিদ্র গৃহহীন পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া গৃহ বরাদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামানকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রালয়ে শাস্তিমূলক বদলী করা হয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার (৫ জুলাই) বিকেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রালয়ের উপসচিব আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পত্রে বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জানাগেছে, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর অধিনে বরগুনার আমতলী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ৩৫০টি দুই কক্ষ বিশিষ্ট সেমিপাকা গৃহ বরাদ্ধ দেয়া হয়। এই ঘরগুলো উপজেলার অসহায়, গৃহহীন ও দুঃস্থ ভূমিহীন পরিবারগুলোকে যাচাই- বাচাই করে তাদের মধ্যে বরাদ্ধ দেওয়ার কথা। কিন্তু উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নে বরাদ্ধ দেয়া ১১০টি গৃহের মধ্যে উপজেলায় ওই প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান তার অফিস সহকারীর মাধ্যমে উৎকোচের বিনিময়ে অসহায়, গৃহহীন ও দুঃস্থ ভূমিহীন পরিবারকে বাদ দিয়ে অফিস সহকারীর আতœীয়- স্বজনদের মাঝে ১০টি গৃহসহ যারা গৃহ পাওয়ার উপযূক্ত নয় যাদের ভূমি আছে এমন ব্যক্তিদের মাঝে বরাদ্ধ দেয়া হয়। একই বাড়ীতে একের অধিক গৃহও বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। ওই সময় এই অনিয়নের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন যুবলীগের এক নেতা বরগুনা জেলা প্রশাসক বরাবরে উৎকোচ নিয়ে গৃহ বরাদ্ধের অভিযোগ এনে ইউএনও ও অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যা নিয়ে ওই সময় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যার। পরে বিষয়টি বরগুনা জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটেটকে তদন্ত করার দায়িত্ব দেয়। ওই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়ার কিছুদিন পরে বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে একটি টিম সরেজমিনে তদন্ত করতে আমতলী আসেন। তারাও গুলিশাখালীসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নির্মানাধীন গৃহগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে নানা অনিয়ম ও নীতিমালা বর্হিভূত কর্মকান্ডের প্রমাণ পায়।
আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব হোসেন মুঠোফোনে জানান, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রকৃত ভূমিহীনকে দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি সেমিপাকা গৃহ নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের প্রকল্প। কিন্তু ওই গৃহ নির্মাণ ও বরাদ্ধকে কেন্দ্র করে কোথাও কোথায় অনিয়মের খবর বিভিন্ন সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যা সংশ্নিষ্ট জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী আমতলী উপজেলায় নির্মিত গৃহের গুণগত মান ঠিক হয়নি বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। সেসঙ্গে ভূমিহীনদের ঘর ভূমি মালিকদের নামে বরাদ্দ, ঘর বরাদ্দে অনিয়ম এবং ঘর নির্মাণ নিয়ে নীতিমালা বর্হিভূত কর্মকান্ড করার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।
বরগুনা জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান মুঠোফোনে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামানের শাস্তিমূলক বদলী ও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অনিয়ম করলে প্রশাসনের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।
আমতলীতে ১৩ করোনায় আক্রান্ত, শনাক্তের হার শতকরা ৫৬’৫২ শতাংশ
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলীতে মরনঘাতি করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। আজ ২৩ জনের নুমনা পরীক্ষায় ১৩ জন আক্রাক্ত হয়েছেন। শনাক্তের হার শতকরা ৫৬’৫২ শতাংশ। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ আক্রাক্ত হওয়া রোগীদের বাড়িতে আইসোলেশনে রেখেই চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আজ (মঙ্গলবার) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৩ জন রোগী নমুনা দেয়। ওই ২৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় মধ্যে ১৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জিন এক্সপার্ট মেশিনে দ্বারা শনাক্ত করা হয়েছে। সে হিসেবে শনাক্তের হার শতকরা ৫৬’৫২ শতাংশ। আক্রান্ত রোগীদের তাদের স্ব-স্ব বাড়িতে আইসোলেশনে রেখে মুঠোফোনে পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ আবদুল মুনয়েম সাদ মুঠোফোনে বলেন, আজ ২৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। শনাক্তের হার শতকরা ৫৬’৫২ শতাংশ।