বিশেষ প্রতিনিধি :: গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে করোনায় কারও মৃত্যু হয়নি। ১৩দিন পর করোনায় এমন একটি মৃত্যুহীন দিন পার করেছে চট্টগ্রাম। এর আগে সর্বশেষ গত ১৫ এপ্রিল এমন আরেকটি মৃত্যুহীন দিন দেখেছিলো। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৪৫ জনের দেহে। এদের মধ্যে ১৭৯ জন নগরীর ও ৬৬ জন বিভিন্ন উপজেলার।
আরো পড়ুন: লাইফ ফোকাস পর্ব-2
এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪৯ হাজার ৩৪০ জনে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় কোনও মৃত্যু না হওয়ায় মৃতের সংখ্যা ৫০৪ জনে রয়েছে।
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের ১০টি ল্যাবে ১ হাজার ৩৮৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে ২৪৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৫৬ জন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) ল্যাবে ৪২৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৬৮ জন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ল্যাবে ৩১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৯ জনের শরীরে করোনা জীবাণু পাওয়া গেছে।
এছাড়া চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) ল্যাবে ২৪০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪৭ জন, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে ২১ জনের নমুনা পরীক্ষায় একজনের শরীরে করোনার জীবাণু ধরা পড়েছে।
অন্যদিকে ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল ল্যাবে ৮৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১০ জন ও শেভরণ ক্লিনিকের ল্যাবে ২৫২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৭ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। একই সময়ে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ল্যাবে ২০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৫ জন, জেনারেল হাসপাতালের রিজিওনাল টিবি রেফারেল ল্যাবরেটরিতে (আরটিআরএল) ৪২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৭ জন এবং মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে ২১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৬ জনের দেহে করোনার জীবাণু পাওয়া গেছে।
এদিকে করোনাভাইরাসে চট্টগ্রামে নারীর চেয়ে পুরুষের আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেশি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একই হলেও চট্টগ্রামে গত তিন মাসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায় আক্রান্তের হিসাবে দ্বিগুণের বেশি আর মৃত্যুর হার আড়াই গুণের বেশি।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চট্টগ্রামে ৩ মার্চ ২০২০ সাল থেকে ২৬ এপ্রিল ২০২১ পর্যন্ত সর্বমোট মৃত্যুর সংখ্যা ৫০৪ জনের। এর মধ্যে পুরুষ ৩৬৭ জন ও নারী ১৩৭ জন।
চট্টগ্রামের পরিসংখ্যান বলছে, ০-১০ বছর বয়সে আক্রান্ত পুরুষ ৭২৩ জন, মহিলা ৫১৩ জন। মোট ১২৩৬ জন। শতকরা ২.৫১ ভাগ। এরমধ্যে মৃত্যু পুরুষ ৩, মহিলা ১। মোট ৪। শতকরা ০.৭৯ ভাগ। ১১-২০ বছর বয়সে আক্রান্ত পুরুষ ১৯৩২ জন, মহিলা ১৫২৬ জন। মোট ৩৪৫৮ জন। শতকরা ৭.০৪ ভাগ। মৃত্যু পুরুষ ১, মহিলা ৪। মোট ৫। শতকরা ০.৯৯ ভাগ।
২১-৩০ বছর বয়সে আক্রান্ত পুরুষ ৬৫৬৫ জন। মহিলা ৩০৭১ জন। মোট আক্রান্ত ৯৬৩৬ জন। শতকরা ১৯.৬২ ভাগ। মৃত্যু পুরুষ ৪ জন, মহিলা ৩ জন। মোট ৭। শতকরা ১.৩৮ ভাগ। ৩১-৪০ বছর বয়সে আক্রান্ত পুরুষ ৮৩৯২ জন। মহিলা ৩১৬৯ জন। মোট ১১ হাজার ৫৬১ জন। শতকরা ২৩.৫৪ ভাগ। মৃত্যু পুরুষ ১১ জন। মহিলা ১২ জন। মোট ২৩ জন। শতকরা ৪.৫৬ ভাগ।
৪১-৫০ বছর বয়সে আক্রান্ত পুরুষ ৬২৭৯ জন। মহিলা ২৮০৩ জন। মোট ৯০৮২ জন। শতকরা ১৮.৪৯ ভাগ। মৃত্যু পুরুষ ৪৫ জন। মহিলা ১৯ জন। মোট ৬৪ জন। শতকরা ১২.৬৯ ভাগ। ৫১-৬০ বছর বয়সে আক্রান্ত পুরুষ ৪৯১৬ জন। মহিলা ২৫৬৮ জন। মোট ৭৪৮৪ জন। শতকরা ১৫.২৪ ভাগ। মৃত্যু পুরুষ ৮৯ জন। মহিলা ৩৭ জন। মোট ১২৬ জন। শতকরা ২৫% ভাগ।
৬০ বছরের ঊর্ধ্বে আক্রান্ত পুরুষ ৪৪৪৫ জন। মহিলা ২১৯৩ জন। মোট ৬৬৩৮ জন। শতকরা ১৩.৫২ ভাগ। মৃত্যু পুরুষ ২১৪ জন। মহিলা ৬১ জন। মোট ২৭৫ জন। শতকরা ৫৪.৫৬ ভাগ। সর্বমোট পুরুষ আক্রান্ত ৩৩ হাজার ২৫২ জন আর মহিলা আক্রান্ত ১৫ হাজার ৮৪৩ জন। যার মোট সংখ্যা ৪৯ হাজার ৯৫ জন। মৃত্যু পুরুষ ৩৬৭ জন, মহিলা ১৩৭ জন। মোট মৃত্যু ৫০৪ জন।