আমতলী প্রতিনিধি :: মহামারী করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষায় সরকার কর্তৃক নির্দেশিত ১৮ দফা স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা মানায় বরগুনার আমতলী উপজেলায় বিভিন্ন সড়কে চলাচলের মাধ্যম বিভিন্ন গাড়ীর চলাচল বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন ৫/৬ হাজার চালক, শ্রমিক।
আরো দেখুণ: ইফতারে তরমুজের শরবত তৃষ্ণা মেটাবে
আরো দেখুণ: এই রমজানেও হোক শরীরচর্চা
৫/৬ হাজার চালক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ায় প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ অর্ধহারে অনাহারে দিনাতিপাত করছেন। এতে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। দ্রæত সরকারীভাবে এদের সাহায্যের দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
জানাগেছে, মহামারী করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে সরকার গত ১৪এপ্রিল থেকে সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষনা করে মানুষকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। সরকার ঘোষিত লকডাউনের ৬ দিন চলছে। সরকারে নির্দেশিত লকডাউন মানতে গিয়ে উপজেলার বিভিন্ন সড়কের বরগুনার জেলা যান্ত্রিকযান ত্রি- হুইলার শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি নং ২০৬৩ আমতলী উপজেলা স্টিল এন্ড ওর্য়াকসপ শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি নং ২২৯৪ বরগুনা জেলা ট্র্যাক্সি, অটোরিক্সা, মাহেন্দ্র অটো টেম্পু, মিশুক, বেবি ট্যাক্সি, ট্যাক্সিকার মালিক সমিতি, রেজি: নং ২১৬৪ আন্ত জেলা বাস মিনিবাস কোচ, মাইক্রোবাস, শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি: নং ২২৪২ ও ইমারত শ্রমিক ইউনিয়নের ৫/৬ হাজার চালক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পরায় তারা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
সোমবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অটোরিকসা, ইজিবাইক. মিশুক, কিংসু ও অন্যান্য ছোট যানবাহন স্বাস্থ্য বিধি না মেনে ৫/৬জন যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। আজ সোমবার আমতলী থানা পুলিশ সড়ক থেকে অটোরিকসা, ইজিবাইক. মিশুক, কিংসুসহ অনেক ছোট যানবাহন আটক করেছে। এ ভাবে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকলে কোভিড করোনা নিয়ন্ত্রনে রাখা সম্ভব বলে সচেতন মহেল মনে করছেন। সচেতন মহল আরো মনে করেন যে আটক যানবাহনগুলো ছেড়ে না দিয়ে আটকিয়ে রাখলে আর কেহ সাহস পাবেনা সড়কে অন্যান্য যানবাহন বের করতে। সড়কে পন্যবাহী যান ব্যতীত কোন বড় ধরনের যানবাহন ও চলাচল করছে না।
মাহেন্দ্র মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান জামাল বলেন, কোন কাজ নেই। লকডাউনে বাড়ীতে বসে অলস সময় কাটাচ্ছে চালক ও শ্রমিকরা । কিন্তু পেটতো অলস না। সেতো যথা সময়ে খাবার চায়। কি করবে চালক শ্রমিকরা ভেবে পাচ্ছি না।
বরগুনা জেলা যান্ত্রিকযান ত্রি-হুইলার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি উপজেলা শ্রমিকলীগের আহবায়ক মো. জহিরুল ইসলাম খোকন মৃধা বলেন, সরকারের ১৮ দফা স্বাস্থ্য নির্দেশিকা জারী করার পর ১৪ এপ্রিল থেকে লকডাউনে উপজেলার ৫/৬ হাজার চালক ও শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন । ৫/৬ হাজার চালক ও শ্রমিকের পরিবারের প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ অর্ধহারে অনাহারে দিনাতিপাত করছেন। এ ব্যাপারে প্রশাসনের উচ্চ মহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
আমতলী সরকারী কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের (অব:)সহকারী অধ্যাপক মো. আবুল হোসেন বিশ্বাস বলেন, লকডাউনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে লকডাউনে কর্মহীন মানুষের কাজের জন্য নির্ধারিত সময় দেয়া প্রয়োজন। যাতে তারা উপার্জন করে পরিবার পরিজন নিয়ে দু -মুঠো খেতে পারে । তা না হলে কর্মহীন মানুষগুলো অর্ধাহারে অনাহারে দিনাতিপাত করতে হবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, উপজেলার শ্রমজীবি ও অসহায় মানুষকে সহায়তার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। সহায়তার বরাদ্দ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, এখনো বরাদ্দ পাইনি।