বরগুনা প্রতিনিধি :: বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের পূর্বচিলা গ্রামে বিরোধিয় জমি দখল ও ঘর তোলাকে কেন্দ্র করে দু’প্রতিপক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ ৫ জন গুরুত্বর আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জনকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ও আহত সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার পূর্বচিলা গ্রামের মনির হাওলাদার গং ও তার চাচাতো ভাই মোতালেব হাওলাদার গংদের সাথে গত ২ বছর ধরে ৩০ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। আজ (শনিবার) সকাল ৯ টার দিকে মোতালের হাওলাদারের নেতৃত্বে ৭/৮ জন লোক ওই বিরোধিয় জমি দখল করে সেখানে ঘর তুলতে গেলে প্রতিপক্ষ মনির হাওলাদার গংরা এতে বাঁধা প্রদান করে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশিয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের ৫ জন গুরুত্বর আহত হয়।
আহতরা হলেন মনির হাওলাদারের গংদের পক্ষে স্ত্রী নাজমা বেগম (৪০), নজির হাওলাদারের স্ত্রী রেহেনা বেগম (৪২) ও তার পুত্র বায়েজীদ (১৮)। মোতালেব হাওলাদার গংদের পক্ষে আবু বকর (২০) ও রিপা (২২)। স্থানীয় ও স্বজনরা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। আহতদের মধ্যে বায়জিদ ছাড়া বাকী ৪ জন গুরুত্বর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের চেষ্টা চলছে বলে আহতদের পরিবার সূত্রে জানাগেছে।
মনির হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, আমাদের প্রতিপক্ষ চাচাতো ভাই মোতালেব হাওলাদার গংদের সাথে পারিবারিকভাবে গত ২ বছর ধরে ৩০ শতাংশ জমি নিয়ে আমাদের সাথে বিরোধ চলে আসছে। আজ ওই বিরোধিয় জমিতে তারা লোকজন নিয়ে ঘর তুলতে গেলে আমরা তাতে বাঁধা দেই। এসময় আমাদের বাড়ীতে ঢুকে আমার স্ত্রীসহ তিন জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। আমি এর বিচার চাই।
এ বিষয়ে জানার জন্য প্রতিপক্ষ মোতালেব হাওলাদার মুঠোফোনে পাল্টা অভিযোগ করেন ওই বিরোধিয় জমি নিয়ে গত বছর আমাদের মিমাংসা হয়েছে। আজ সকালে আমি ওই জমিতে ঘর তুলতে গেলে মনির হাওলাদার ও তার লোক এতে বাঁধা প্রদান করে ঘর ভেঙ্গে ফেলে। এতে আমাদের দু’জন গুরুত্বর আহত হয়। বর্তমানে তারা বরিশালে চিকিৎসাধীন আছে।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাঃ ফারজানা আক্তার দিনা বলেন, আহত ৫ জনকে যথাযত চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
আমতলী থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহআলম হাওলাদার বলেন, এ ঘটনা আমাদের জানা নেই। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত পূর্বক পরবর্তি আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।