বিশেষ রতিনিধি :: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মশাল মিছিল থেকে আটককৃত সাত শিক্ষার্থীর মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন প্রগতিশীল ছাত্রজোট। এর আগে ৭ মার্চ তাদেরকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল, সাত ছাত্রনেতার নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার শ্রমিকনেতা রুহুল আমিনসহ সকলের মুক্তির দাবি জানান প্রগতিশীল বামধারার সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে সদ্য কারামুক্ত নজির আমির চৌধুরী জয়, তামজিদ হায়দার চঞ্চল ও মো. আকিফ আহম্মেদকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন সংগঠনসমূহের নেতাকর্মীরা। এরপর টিএসসি থেকে মিছিল শুরু করে শামসুন্নাহার হল হয়ে শাহবাগ প্রদক্ষিণ করে আবার রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশ করে প্রগতিশীল সংগঠনসমূহ।
বিক্ষোভ মিছিলে ‘লাথি মার ভাঙরে তালা, শেখ হাসিনার বন্দিশালায় আগুন জ্বালা; আগুন জ্বালা’ স্লোগান দেন তারা।
ছাত্র ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজনের সঞ্চালনায় সমাবেশ বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ও প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক আল কাদেরী জয়।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করে আল কাদেরী জয় বলেন, এই শেখ হাসিনার সরকার বুঝে গেছে, এই অবৈধ নির্বাচন দিয়ে তার পক্ষে আর ক্ষমতায় থাকা সম্ভব নয়। তাই সে এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দিয়ে, হামলা-মামলা দিয়ে এই কাজটাই তারা করতে চায়।
তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে অবৈধ আইন ঘোষণা করে বলেন, সরকারি মহল বলছে এই আইনের নাকি সংশোধন প্রয়োজন। আমরা এই আইনের সংশোধন নয়, এই কালো আইন বাতিল চাই।
আল কাদেরী জয় আরো বলেন, সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের কথা বলে এই আইন দিয়ে অগণতান্ত্রিকভাবে নির্যাতন চালাচ্ছে। এই করোনাকালীন সময়ে লেখক, কার্টুনিস্ট এবং সাংবাদিকসহ প্রায় ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করেছে। সম্প্রতি লেখক মুশতাকের কারাগারে মৃত্যু এবং কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরকে নির্যাতন সেই কালো আইনের অপপ্রয়োগেরই বহিঃপ্রকাশ।
সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার, ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক মাহির শাহরিয়ার রেজাসহ প্রগতিশীল সংগঠনসমূহের প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।