এস এল টি তুহিন : চার দিকে ঝরা পাতার মর্মর ধ্বনি জানিয়ে দিচ্ছে বসন্ত এসেছে। এ বছর দুটি উৎসব বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস। বরিশাল নগরীর ফুলের দোকান গুলোতেও শুরু হয়েছে ফুল বিক্রির ব্যস্ততা। প্রিয় মানুষটিকে শুভেচ্ছা জানাতেই ফুল কিনেছেন অনেকে। সকাল থেকে সন্ধ্যা নগরীর কাকলির মোড়ে
,কীর্তনখোলা নদী তীরবর্তী ত্রিশ গোডাউন এলাকা,মুক্তিযোদ্ধা পার্ক,স্বাধীনতা পার্ক,বঙ্গবন্ধু উদ্যান, কীর্তনখোলা নদীর উপর নির্মিত দপদপিয়া সেতু (শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত), উজিরপুরের গুঠিয়ার দৃষ্টিনন্দন বায়তুল আমান জামে মসজিদ কমপ্লেক্স, দুর্গা সাগর, শিশু পার্ক এই সব জায়গায়
ফুলের দোকানে চোখে পরার মত ভির দেখা যায়। অন্য অন্য দিনের তুলনায় ফুলের চাহিদাও বেড়েছে কয়েকগুণ। ক্রেতাদের সামলাতে ব্যস্ত সময় পার করছে দোকানীরা। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ভালোবাসা এবং বসন্ত দুটি উৎসব একদিনে হওয়ায় প্রতিবছরের তুলনায় ফুলের দোকানে ব্যস্ততা একটু বেসিই। চলছে আগাম কেনা কাটা। তাছার আবার কোভিড-১৯ এর জন্য স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় বেচাকেন কম হতে পারে খুনসুটি দেখা যায় ফুল ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
ফুলক্রেতা বরিশাল চরবাড়িয়ার ইউনিয়ন চরআবদানীর গ্রামের সাহারিয়া রাব্বি বলেন, পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস ফুল ছাড়া পূর্ণতা পায় না তাই অবশ্যই ফুলের পশর উৎসবকে আরো রাঙিয়ে তোলে এবং প্রিয় মানুষটিকে শুভেচ্ছা জানতেই আমাদের এই ফুল সংগ্রহ। সর্বপরি ফুল আমাদের আনন্দ বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। মুক্তিযোদ্ধা পার্কের দোকানী মো: হাবিব হোসেন বলেন করোনার জন্য বিক্রয় কম এখন প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার ফুল বিক্রয় হয় অন্য দিকে করোনা যে সময় ছিল না তখন আমি ১০০ থেকে ২০০ টাকার ফুল বিক্রি করতাম। হাবিব তার দোকানে যে সব ফুল বিক্রি করে জারবেরা ৪ টাকা করে,গেল ৫০টাকা, ভাল লাল গোলাপ ৭০ টাকা করে ও মেয়েদের মাথায় পড়ে জিপসি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বিক্রি করে থাকে তিনি জানায়, তাছারা প্রতিবছর এই ভালোবাসা দিবস এবং বসন্ত উৎসবেকে ঘিরে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রিদের ফুল কেনার চাহিদা থাকে বেশি। কিন্তু এবছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং অনেকে চলে গেছেন গ্রামের বাড়িতে তাই একটু বেচা কেনা প্রতিবছরের তুলনায় কম হতে পারে। করোনা ভাইরাসের কারণে বসন্ত বরণের আনুষ্ঠানিকতার প্রস্তুতি তেমন একটা দেখা যায়নি বরিশাল নগরীর জুয়ে। কলেজ গুলোতেও এবার বসন্ত বরণ অনুষ্ঠান হচ্ছে না। সীমিত পরিবেশে বসন্ত বরণের আয়োজন করেছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন। বসন্তের বিকালে উদীচী’র আয়োজনে জগদীস সারস্বত স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে প্রতি বছর বসন্ত বরণ অনুষ্ঠান হয়ে থাকে।
সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজেও রয়েছে বসন্ত বরণের আয়োজন। সরকারি মহিলা কলেজের বকুল তলায় প্রতি বছরের ন্যায় এবারও সীমিতভাবে বসন্ত বরণ করা হবে।