এস এল টি তুহিন : বরিশাল থেকে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে যেতে আর ফেরি ব্যবহার করতে হবে না। পায়রা বন্দর, কৃষি ও মৎস্যকেন্দ্রিক অর্থনীতিও গতি পাবে। তবে সবই নির্ভর করছে বরিশাল-পটুয়াখালী সড়কের পায়রা সেতুর কাজ শেষ হওয়ার ওপর। ইতিমধ্যে সেতুর ৭৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। চলমান কাজ থেমে না গেলে আগামী জুনেই চালু হতে পারে এটি। এই সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কয়েকজন কর্মকর্তা এসব তথ্য জানিয়েছেন। সেতু নির্মাণ প্রকল্পের এক কর্মকর্তা বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে কিছুটা বিলম্ব হলেও ইতিমধ্যে সেতুটর ৭৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের জুনে খুলে যেতে পারে দক্ষিণের সড়ক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হতে যাওয়া এই সেতু। সেতুটি চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন সড়ক ব্যবস্থা চালু হবে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের পায়রা সেতুর কাজ এগিয়ে চলছে। আগামী জুনেই এটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার লেবুখালি এলাকায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের পায়রা সেতুর কাজ এগিয়ে চলছে। আগামী জুনেই এটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার লেবুখালি এলাকায় সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, এ সেতু নির্মাণের নকশা কিছুটা ব্যতিক্রমধর্মী। চার লেনবিশিষ্ট সেতুটি নির্মিত হচ্ছে এক্সট্রাডোজড কেব্ল-স্টেইড প্রযুক্তিতে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর ওপর শাহ আমানত সেতুও এই প্রযুক্তিতে নির্মিত। ১ হাজার ৪৭০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৯ দশমিক ৭৬ মিটার প্রস্থের সেতুটি কেব্ল দিয়ে দুই পাশে সংযুক্ত থাকবে। উভয় পাড়ে সাত কিলোমিটারজুড়ে নির্মাণ করা হবে সংযোগ সড়ক। নদীর মাঝখানে মাত্র একটি পিলার ব্যবহার করা হয়েছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ঠিক থাকবে। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা। গত বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর মধ্যে ৬৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪টি স্প্যানের কাজ এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে ৩৭০ মিটার স্প্যানের কাজ শেষ হয়েছে। দুই পাড়ের সংযোগ সড়ক, টোল প্লাজা, ওজন নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র স্থাপন এবং নদীশাসনের কাজও এগিয়ে চলছে। জলতল থেকে সেতুটি নদীর ১৮ দশমিক ৩০ মিটার উঁচু হবে। বাতি জ্বলবে সৌরবিদ্যুতের সাহায্যে। ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পায়রা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সেতু নির্মাণ প্রকল্পের এক কর্মকর্তা বলেন, জলতল থেকে সেতুটি নদীর ১৮ দশমিক ৩০ মিটার উঁচু হবে। বাতি জ্বলবে সৌরবিদ্যুতের সাহায্যে। ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পায়রা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লংজিয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ কনস্ট্রাকশন সেতুটি নির্মাণে কাজ করছে। পায়রা সেতুর প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল খালেক গতকাল নিউজজি কে বলেন , বর্ষা ও করোনা পরিস্থিতির কারণে কাজ কিছুটা পিছিয়ে যায়। নতুন করে কাজ শুরুর পর অগ্রগতির পরিমাণ প্রায় ২৫ শতাংশ। সেতুর ভিত ও নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণেই কাজ বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়েছে। এ ছাড়া কয়েক দফায় পরিবর্তন হয়েছে সেতুর নকশা।