বরিশাল সংবাদ ঃ ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের বিলাসবহুল ‘সুন্দরবন-১১’ লঞ্চের ছাদ থেকে ২৪ বছরের এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে ধোঁয়া নির্গমনের চিমনির আড়াল থেকে লাশটি উদ্ধার করে লঞ্চের কর্মচারীরা।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন লঞ্চের সুপারভাইজার মো. সিরাজ। তিনি জানান, মঙ্গলবার সকালে বরিশাল পৌঁছায় ‘সুন্দরবন-১১’। যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর কর্মচারীরা লঞ্চ পরিষ্কার করতে গেলে তিন তলার ছাদে ধোঁয়া নির্গমনের চিমনির আড়ালে ওই যুবকের ক্ষতবিক্ষত লাশ দেখতে পায়। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।
ঘটনার পরপরই সিআইডি ক্রাইমসিন, সিআইডি, র্যাব ও কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের উপস্থিতিতে বরিশালস্থ সিআইডি ক্রইমসিনের চার্জ ইন্সেপ্রেক্টর আল মামুনের নেতৃত্বে মোঃ সেলিমও মোঃ নুরুল আলমের দল অজ্ঞাত যুবকের লাশের চারিদিকে বেড়াআবদ্ধ করে নিখুতভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। লঞ্চের ডেক থেকে একটি ভিজিডিং কার্ড পাওয়া যায় যেখানে নাম লেখা রয়েছে রিপন হাওলাদার, নলচিঠি, বিহঙ্গল কুলকাঠী। পাশাপাশি সেখানে সাব্বির ফ্যাশন, নারায়নগঞ্জ, টুয়েলকাম সহকারী লেখা রয়েছে।
তবে এই কাডটি যে এই ব্যাক্তির হবে তার কোন প্রমান এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিআইডি নুরুল আলম। তবে তারা সেখানে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন।
এসময় নৌ পুলিশের এএসপি আহসান হাবীব বলেন তারা লঞ্চ পরিদর্শন করে দেখেছেন এখানে যাত্রীদের নিরাপত্তার কোন ব্যবস্থা নেই।
স্টাপরা মালিক পক্ষের স্বার্থ রক্ষার কাজ করেন বলে তাদের ধারনা। একই সময় লাশের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে একাধিক ব্যাক্তি ছিল বোঝা যায় হত্যার পূর্বে ধস্তাধস্তি হয়েছে। এছাড়া এতটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে হত্যার শিকার হওয়া ব্যাক্তি ডেকের যাত্রী ছিল।
এব্যাপারে কোতয়ালী মডেল থানার অপরেশন মেয়াজ্জেম হোসেন জানান সিআইডি ক্রাইমসিনের সদস্যরা দেখছেন তারপর লাশ শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হবে তবে এব্যাপারে নৌ-থানা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করতে হবে।
বরিশাল নৌ সদর থানার ওসি আব্দুলাহ আল মামুন জানান, ওই যুবকের পরিচয় জানা যায়নি। নিহতের পেটে ও বুকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে জানতে লঞ্চের সিসি ক্যামেরার ফুটেজের সহযোগিতা নেয়া হবে।
তিনি জানান সকালে সুন্দরবন লঞ্চর লস্কর কালাম ছাদে পানি দিয়ে ধৌত করতে গেলে সেখানে এক যুবকের নাড়িভুড়ি বেড় করা সহ বিভিন্নস্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্নের দাগ সহ লাশ পড়ে থাকতে দেখে নিছে নেমে এসে সুপারভাইজার সিরাজকে অবহিত করা হলে তাৎক্ষনিক নৌ-থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়।
এর পূর্বে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বিলাশবহুল সুন্দরবন-(১১) লঞ্চটি ভোর সাড়ে তিনটার দিকে বরিশাল নৌ-বন্দরে নঙ্গর করে।